লালমনিরহাট সদরে কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে মামলায় র্যাবের যৌথ অভিযানে ভিকটিম উদ্ধার এবং আসামি গ্রেফতার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানিয়েছেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
বাদীর এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম কলেজে যাতায়াতের সময় গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিমকে প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতো। পরবর্তীতে ভিকটিম অতিষ্ঠ হয়ে বাদীকে জানালে বাদী গ্রেফতারকৃত আসামিকে উক্ত রুপ অন্যায় কাজ করতে নিষেধ করে। তখন আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৩ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩০মিনিটে ভিকটিম নিজ বাড়ী থেকে কলেজে যাওয়া উদ্দেশ্যে বাহির হলে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগীরা মিলে মাইক্রোবাস যোগে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অজ্ঞাতনামা স্থানে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৪৬, তাং- ১৯/১১/২০২৪ইং, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০(সংশোধনী/২০২৫) এর ৭/৩০ তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬০ সালের ৫০৬ ধারা।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-১১ সিপিএসসি নারায়ণগঞ্জ এর যৌথ আভিযানিক দল বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১৫মিনিট সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিবু মার্কেটের যাত্রী ছাউনি এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামি লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার বালাটারী গ্রামের মোঃ মিন্টু মিয়ার ছেলে মোঃ নাঈম ইসলাম (২২)’কে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ভিকটিম ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।